বারবার খুশকি ফিরে আসে কেন, কমাতে যা করবেন
শ্যাম্পু বদলানো, চুলে তেল দেওয়া কিংবা বিভিন্ন ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করেও অনেকের খুশকি বারবার ফিরে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুশকিকে শুধু মাথার ত্বকের শুষ্কতা বা অপরিচ্ছন্নতার ফল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল, অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা এবং ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণেও এ সমস্যা হতে পারে।
খুশকির অন্যতম কারণ ম্যালাসেজিয়া
খুশকির সঙ্গে ম্যালাসেজিয়া নামের এক ধরনের ইস্ট-সদৃশ অণুজীবের সম্পর্ক রয়েছে। এটি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মাথার ত্বকে থাকতে পারে। তবে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, মাথার ত্বকে তেল জমা, দূষণ ও মানসিক চাপের কারণে এর পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
কীভাবে খুশকি তৈরি হয়?
ম্যালাসেজিয়া মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম ব্যবহার করে। এ প্রক্রিয়ায় তৈরি কিছু উপাদান ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এতে চুলকানি বাড়ে এবং মাথার ত্বকের কোষ স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত ঝরে পড়তে শুরু করে। এর ফলেই খুশকি দেখা দেয়।
খুশকি বারবার ফিরে আসে কেন?
সাধারণ শ্যাম্পু মাথার ত্বকে জমে থাকা সাদা বা তৈলাক্ত খোসা সাময়িকভাবে পরিষ্কার করতে পারে। কিন্তু খুশকির পেছনে থাকা অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা নিয়ন্ত্রণে না এলে কিছুদিন পর আবারও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তৈলাক্ত ও শুষ্ক খুশকির পার্থক্য
খুশকি সাধারণভাবে তৈলাক্ত ও শুষ্ক—এই দুই ধরনের হতে পারে।
তৈলাক্ত খুশকি: অতিরিক্ত সিবাম ও ম্যালাসেজিয়ার বৃদ্ধির সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের খুশকির আঁশ সাধারণত হলদে, মোটা বা আঠালো হয়। চুল ধোয়ার এক-দুই দিনের মধ্যেই মাথার ত্বক আবার তেলতেলে হয়ে যাওয়াও এর একটি লক্ষণ।
শুষ্ক খুশকি:মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে বা ম্যালাসেজিয়ার কারণে প্রদাহ হলে এ ধরনের খুশকি হতে পারে। এর আঁশ সাধারণত ছোট, সাদা ও গুঁড়োর মতো হয় এবং সহজেই কাঁধে ঝরে পড়ে। শুধু চুলে তেল ব্যবহার করলেই এ সমস্যা দূর হবে—এমন নয়।
গরমে খুশকি বাড়ে কেন?
গরম ও আর্দ্র পরিবেশে মাথায় ঘাম ও সিবামের পরিমাণ বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় হেলমেট বা টুপি পরে থাকা, ভেজা চুল বেঁধে রাখা কিংবা মাথার ত্বকে ঘাম জমে থাকলে ম্যালাসেজিয়ার বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে গরমের সময়ে অনেকের খুশকির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
খুশকি নিয়ন্ত্রণে কেমন শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন?
খুশকি কমাতে শুধু মাথার ত্বকের খোসা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; এর মূল কারণ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। শ্যাম্পু কেনার সময় পিরোকটোন ওলামাইনের মতো অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে কি না, তা দেখা যেতে পারে। এসব উপাদান ম্যালাসেজিয়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
খুশকি কমে গেলেই শ্যাম্পু পুরোপুরি বন্ধ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ অনেকের ক্ষেত্রে খুশকি দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার ফিরে আসতে পারে।
খুশকি প্রতিরোধে যেসব অভ্যাস কাজে আসতে পারে
* অতিরিক্ত ঘাম হলে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন।
* টুপি, হেলমেট ও চুলের অন্যান্য সামগ্রী নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
* ভেজা চুল দীর্ঘ সময় বেঁধে বা ঢেকে রাখবেন না।
* মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
* খুশকি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা তীব্র চুলকানি ও প্রদাহ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।