বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বনেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ শত শত

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ শত শত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ শত শত

নেপাল-চীন সীমান্তের গিরোং এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের পাশাপাশি নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুহূর্তের মধ্যে কাদা, পলি ও পানির বিশাল স্রোত এগিয়ে এসে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। খবর রয়টার্সের।


সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিপদ বুঝতে পেরে মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে পালানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোত একটি বিশাল দেয়ালের মতো এগিয়ে এসে স্থাপনা ও যানবাহন তছনছ করে দেয়।


নেপালের রাসুয়া জেলার প্রশাসক নারেন্দ্র পারিয়ার এ ঘটনাকে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।


অন্যদিকে, চীনের তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে ভূমিধসের ঘটনায়ও ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিধসে নেপাল-চীন সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।


দুর্যোগের কারণে নেপালের বেশ কয়েকটি সড়ক, সেতু, বসতি ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলেও দুর্গম এলাকা ও উচ্চ পানির কারণে অনেক জায়গায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে।


দুর্যোগের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ভূমিধস, হিমবাহ বা হিমবাহ-সংক্রান্ত আকস্মিক পানিপ্রবাহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী ও নদীর নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।