বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্ববিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ভিসা আবেদনকারীদের নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে সমন্বয় করতেই ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।


তবে প্রশিক্ষণ কতদিন চলবে এবং কবে থেকে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।


মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিভিন্ন সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হয়। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের আরও সমন্বিত ও ধারাবাহিকভাবে যাচাইয়ের বিষয়টিও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব পাবে।


ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারিত থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং পরে নতুন তারিখ জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক কঠোরতা এসেছে। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় ও বহিষ্কার অভিযান জোরদারের পাশাপাশি ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের ঘটনাও ঘটছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশগ্রহণের মতো বিভিন্ন কারণেও ভিসা আবেদন বাতিলের অভিযোগ উঠেছে।


ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত যাচাই বা ‘রেসিয়াল প্রোফাইলিং’ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।


এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে আইনি চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার একটি নীতি বাতিল করে দেন। আদালতের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।


২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াতেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


ফলে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অভিযান এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন বিধিনিষেধ—দুই দিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রভাব পড়ছে।