শুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বইরানে ছয় মাসের যুদ্ধের ছয় বড় পরিণতি

ইরানে ছয় মাসের যুদ্ধের ছয় বড় পরিণতি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ইরানে ছয় মাসের যুদ্ধের ছয় বড় পরিণতি

ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের কোনো স্পষ্ট সমাধান দেখা যাচ্ছে না। ইরান আত্মসমর্পণ করেনি, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, বিশ্ব অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায়।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় যুদ্ধটি চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন। তবে ছয় মাস পরও সংঘাত বন্ধের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। বরং সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক হামলার পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।


দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের ছয়টি বড় প্রভাব তুলে ধরা হলো—


১. রাজনৈতিক চাপে ট্রাম্প


যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। রয়টার্সের এক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে। মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সংঘাতকে সমর্থন করছেন। গ্যাসের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।


২. বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ


বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ও পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে। তবে আশঙ্কার তুলনায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষতির মাত্রা কিছুটা কম হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছরের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করেছে।


৩. ক্ষতিগ্রস্ত ইরান, তবে পরাজিত নয়


মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপরও দেশটির হাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল ব্যাহত করা এবং পালটা হামলা চালানোর সক্ষমতাও ধরে রেখেছে তেহরান। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটিতে প্রাণহানি, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট আরও বেড়েছে।


৪. মধ্যপ্রাচ্যে বেড়েছে অস্থিরতা


ইরানের পালটা হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাহাজ চলাচল, বিমান পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বীমা ও পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে।


৫. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা


ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলেও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের হামলার পর থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত তারা যাচাই করতে পারেনি। ফলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।


৬. চাপে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি


দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করায় বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


তথ্যসূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন