শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমলাইফস্টাইলশরীরের এই ৫ পরিবর্তন হতে পারে ক্যান্সারের সতর্কসংকেত

শরীরের এই ৫ পরিবর্তন হতে পারে ক্যান্সারের সতর্কসংকেত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
শরীরের এই ৫ পরিবর্তন হতে পারে ক্যান্সারের সতর্কসংকেত

ক্যান্সার হলে শরীরে সবসময় স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। অনেক সময় কিছু সাধারণ পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, যেগুলোকে আমরা কাজের চাপ, ঘুমের ঘাটতি বা অন্য কোনো সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। তবে কারণ ছাড়াই শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।


জনস হপকিন্স মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, শরীরে কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব লক্ষণ থাকলেই যে ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়। তবে কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।


**কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া**


খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় কোনো পরিবর্তন না এনেও যদি হঠাৎ ওজন কমতে থাকে, বিষয়টি নজরে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কেজি বা তার বেশি ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো। বিভিন্ন কারণেই ওজন কমতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।


**পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি**


সারাদিন কাজের পর ক্লান্তি স্বাভাবিক। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার শরীরের শক্তি ও পুষ্টির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অবশ্য রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপসহ আরও অনেক কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি হতে পারে।


**বারবার জ্বর হওয়া**


সর্দি-জ্বর বা সংক্রমণের কারণে জ্বর হওয়া সাধারণ বিষয়। সাধারণত সংক্রমণের চিকিৎসা হলে জ্বরও কমে যায়। কিন্তু কোনো স্পষ্ট সংক্রমণ ছাড়াই যদি বারবার জ্বর আসে, বিশেষ করে রাতে জ্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু ধরনের ক্যান্সারের সঙ্গে এমন পুনরাবৃত্ত জ্বরের সম্পর্ক থাকতে পারে।


**অজানা কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা**


শরীরের কোথাও ব্যথা হলেই ক্যান্সার হয়েছে—এমনটা নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যথার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকে। তবে কোনো ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে এবং এর স্পষ্ট কারণ জানা না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে টিউমার আশপাশের অঙ্গ বা টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যথা তৈরি করতে পারে।


**ত্বক বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন**


ত্বকেও বিভিন্ন অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যা কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, তিলের আকৃতি বা রঙ পরিবর্তন হওয়া কিংবা নতুন তিল দ্রুত বড় হতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


বিশেষ করে কোনো তিলের দুই পাশ অসমান হওয়া, কিনারা অনিয়মিত হয়ে যাওয়া, রঙের পরিবর্তন বা অতিরিক্ত গাঢ় হয়ে যাওয়া, আকার বড় হওয়া কিংবা নতুন করে পরিবর্তন দেখা দিলে তা পরীক্ষা করানো জরুরি।


তবে এসব লক্ষণের কোনো একটি দেখা দিলেই ক্যান্সার হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। বিভিন্ন সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিন্তু কোনো পরিবর্তন অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ক্রমেই বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।