সোমবার , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআইন ও আদালতগুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, জরিমানা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা

গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, জরিমানা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, জরিমানা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা

গুমকে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার ও সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগস্বত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে।


রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়। পাস হওয়া বিলগুলো হলো—জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬ এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিল-২০২৬।


**নতুন কাঠামোয় মানবাধিকার কমিশন**


২০০৯ সালের আইন রহিত করে পাস হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের মাধ্যমে স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশনের নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন।


কমিশনে অন্তত একজন নারী এবং একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রাখার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের সুযোগও রাখা হয়েছে।


বিলটি পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এর কিছু বিধান নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, এতে দ্বিমুখী নীতি রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, সাধারণ নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আগে নোটিশ দিয়ে জবাব চাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।


জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও বিলটির সমালোচনা করেন। পরে বিরোধীদলীয় সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।


**গুমে মৃত্যুদণ্ডের বিধান**


গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের মাধ্যমে কাউকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তার অবস্থান অস্বীকার বা গোপন করাকে গুম হিসেবে গণ্য করা হবে।


এ অপরাধের সাধারণ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুমের শিকার ব্যক্তি মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।


এ ছাড়া ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন, আইনি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ ফান্ড এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে।


**সম্পত্তি হস্তান্তরে আজীবন ভোগের অধিকার**


সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিলের মাধ্যমে ১৮৮২ সালের আইনে ‘আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষিত দান’ ধারণা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মা-বাবা, দাদা-দাদি, রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় কিংবা জীবনসঙ্গীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও দাতা আমৃত্যু ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।


নতুন এই বিধান সব ধর্মের নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।


বিলটি পাসের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা এর কয়েকটি বিধান কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী বলে দাবি করেন এবং জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটি নাকচ হওয়ার পর তারা সাময়িকভাবে ওয়াকআউট করেন।


সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশোধিত এই বিধান সাধারণ দান বা মুসলিম আইনের হেবার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।