মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমজাতীয়অটোরিকশার অবৈধ চার্জিংয়ে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অটোরিকশার অবৈধ চার্জিংয়ে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

favicon
মাহামুদুল হাসান
অটোরিকশার অবৈধ চার্জিংয়ে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট, পরিবেশ ও সরকারি রাজস্ব—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে। বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


তিনি জানান, এসব যানবাহন চার্জ দিতে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে’ নোটিশটি দেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪-এর সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।


নোটিশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর লালবাতি অমান্য, লেন পরিবর্তন ও নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম কমেছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চলাচল করছে।


তিনি বলেন, এসব যানবাহনের অধিকাংশের নাম্বার প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হলেও জরিমানা করা সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে।


এসব ক্যামেরা যানবাহনের নাম্বার প্লেট শনাক্ত করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য পাঠায় এবং পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হয়। কিন্তু নাম্বার প্লেটবিহীন বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা যাচ্ছে না।


সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, অটোরিকশা তুলনামূলক কম খরচে ও সহজে পাওয়া যায় বলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বাহনে পরিণত হয়েছে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব যানবাহনের কাঠামোগত ত্রুটি দূর করার পাশাপাশি প্রধান সড়কে বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।


তিনি অটোরিকশায় নাম্বার প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং প্রধান সড়ক থেকে এসব যান সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন।


জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান নগর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম ভাড়া, সহজলভ্যতা এবং স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের কারণে এসব যান সাধারণ মানুষের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


তবে দ্রুত এবং অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা একসঙ্গে চার্জ দেওয়ার ফলে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।


এ ছাড়া অনুমোদিত বা আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রান্সফর্মার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি লোড এবং পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও তৈরি হচ্ছে বলে সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।