বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি প্রত্যাহার, এনবিআরের সিদ্ধান্তে স্বস্তি বিটিএমএর
দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বন্ড সুবিধার আওতায় সুতা আমদানির সুযোগ প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রফতানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে আমদানি করা সুতা খালাস করতে হবে।
এনবিআরের এ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। একই সঙ্গে সরকার ও এনবিআরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিটিএমএ জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার আওতায় সুতা আমদানির কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশে উৎপাদনযোগ্য ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের তুলার সুতার চাহিদা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতারও যথাযথ ব্যবহার হয়নি।
সংগঠনটির মতে, নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতার চাহিদা বাড়বে। একই সঙ্গে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ থাকা টেক্সটাইল মিলগুলো পুনরায় সচল হওয়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও বাড়বে।
বিটিএমএ বলছে, স্থানীয় মিলগুলো সচল হলে ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের পরিমাণও কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, দেশে উৎপাদিত সুতা ব্যবহারের ফলে তৈরি পোশাক শিল্পে স্থানীয় মূল্য সংযোজন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি সুতা আমদানির পেছনে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণও কমবে।
বিটিএমএর দাবি, বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা সুতা স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি বা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও নতুন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এদিকে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের রফতানি আয় দেশে ফেরত না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিটিএমএ। সংগঠনটির মতে, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে রফতানি আয়ের অর্থ দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে।
বিটিএমএ আশা করছে, এনবিআরের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা বাড়বে, দেশীয় সুতার ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে এ খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।