উপসাগরীয়-ইরান বৈঠক স্থগিত, সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একই দিনে ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে নির্ধারিত বৈঠকও স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এসব ঘটনা ঘটে।
হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর বিমান হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
হামলার পর খামিস মুশাইতসহ সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আরও তিনটি শহরে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত শুক্রবারও সৌদি আরবে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি যোদ্ধাদের দায়ী করেছিল সৌদি আরব। হামলার কারণে দেশটির পূর্ব থেকে পশ্চিমে তেল পরিবহনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়। এই পাইপলাইন দিয়ে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি করা সম্ভব হয়।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার ওমানে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি স্থগিত করা হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অনুরোধেই বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।
এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তবে তার এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজায়ি বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।
হুতিদের নতুন হামলা, ইরান-উপসাগরীয় বৈঠক স্থগিত এবং আলোচনার বিষয়ে ইরানের কঠোর অবস্থানের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।