ইরানকে চীনের সহায়তার দাবি নাকচ করলেন ট্রাম্প
জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার আগে চীনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইরানকে ওই ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছিল—এমন প্রতিবেদন নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করলে যুক্তরাষ্ট্রও চীনের ওপর একই ধরনের নজরদারি চালায়।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প দুই দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রমকে একই কাতারে দাঁড় করান।
সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে দাবি করা হয়, জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরান চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই সামরিক স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফিক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার সঙ্গে ওই স্যাটেলাইট ছবির যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় চীনের কোনো সহায়তা মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর ঘটনায় ভূমিকা রেখেছিল—এমন সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণগুলোর একটি হলো এই স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের ঘটনা।
তবে যেসব চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের নাম প্রকাশ করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের বিষয়টি ওই হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জর্ডানের মুওয়াফিক সালতি বিমানঘাঁটি-সংক্রান্ত স্যাটেলাইট ছবির বিষয়টি চীনা কর্মকর্তাদের কাছে উত্থাপন করেছিলেন। তবে চীনা কর্মকর্তারা অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় চীন ও ইরানের সহযোগিতা স্বাভাবিক বিষয়। একই সঙ্গে তিনি অন্য দেশগুলোকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তোলেন।
তবে ১৭ জুলাইয়ের হামলার সঙ্গে স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের নির্দিষ্ট কোনো যোগসূত্রের বিষয়ে ওই মুখপাত্র সরাসরি কোনো জবাব দেননি বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছে—এমন বিষয় বেইজিং স্বীকার করেনি।
এদিকে, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে এই অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এর আগে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানের মুওয়াফিক সালতি বিমানঘাঁটিতে তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার এটিই ছিল প্রথম ঘটনা।
ওই হামলার সময় ওয়াশিংটন ও তেহরান—দুই পক্ষই জুনে হওয়া একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছিল।