ইউক্রেনীয় ট্রেনে রুশ হামলার পর ইইউ: ‘আমরা ভীত নই’
ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস। হামলার মাধ্যমে ইউক্রেনের পাশে থাকা পশ্চিমা দেশগুলোকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এতে ইউরোপীয়দের ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইউক্রেনীয় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলার পর ফিনল্যান্ডের রোভানিয়েমিতে ইউরোপীয় আর্কটিক সামিটে যোগ দিয়ে এসব মন্তব্য করেন কাজা কালাস।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ আগেই ইইউর উচ্চপদস্থ কূটনীতিকসহ সাবেক বিশ্বনেতাদের একটি দল ওই রেলপথ দিয়ে যাতায়াত করেছিল। ইউক্রেনীয় রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা আগে চলা আগের ট্রেনটিই সম্ভবত রুশ ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল। ওই ট্রেনে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান ডেভিড পেট্রাউস ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউরোপীয় নেতারা বলেন, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে ইউরোপকে ভয় দেখানো বা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট বলেন, হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপীয়দের ভয় দেখানো, হতাশ করা এবং তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।
কাজা কালাস বলেন, হামলাটি পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা। তবে এই বার্তার জবাব ইউরোপকে উল্টোভাবে দিতে হবে। অর্থাৎ ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন আরও জোরদার করতে হবে এবং রাশিয়ার হুমকিতে ভয় না পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি বলেন, পশ্চিমারা যদি ইউক্রেনের পক্ষ থেকে পিছু হটে, তাহলে রাশিয়া সেটিই অর্জন করবে, যা তারা চায়—ইউক্রেনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।
এদিকে এর আগে রাতভর ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়া ৪৫০টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ৪০৫টি ড্রোন ও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
রুশ হামলার পর পোল্যান্ডেও বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। একই সময়ে ব্রাসেলসে ইইউর কূটনীতিকরা রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে বৈঠক করেন।