সেলুনে ঢুকে গুলি, পালাতে না পেরে চাপাতির কোপে যুবক নিহত
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে একটি সেলুনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর পর ফরহাদ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে আরশিনগর এলাকার রাজ সেলুনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরহাদ আরশিনগরের মেম্বার গলিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার সময় ফরহাদ সেলুনে বসে চুল কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি সেলুনে ঢুকে পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। গুলির শব্দে সেলুনে থাকা অন্যরা আতঙ্কে বাইরে বের হয়ে যান।
এরপর হামলাকারীদের দুজন ধারালো চাপাতি নিয়ে সেলুনের ভেতরে ঢুকে ফরহাদের ওপর হামলা চালায়। ফরহাদ লুঙ্গি পরা ও খালি গায়ে সেলুন থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পেছন থেকে একজন তার লুঙ্গি ধরে ফেলায় তিনি আর পালাতে পারেননি। এ সময় আরেকজন তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
সেলুনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ৩টা ৭ মিনিটের দিকে তিনজন সেলুনে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় ক্যাপ ছিল। ঢোকার আগেই একজন প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে সেলুনের ভেতরে গুলি চালায়। পরে অপর দুজন কোমর থেকে চাপাতি বের করে ফরহাদের ওপর হামলা করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ফরহাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
### চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধ
ফরহাদের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের দাবি, মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন ফরহাদ। সেখানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ সাত থেকে আটজন তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
তারা ব্যবসা চালিয়ে যেতে এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন আলাদা করে টাকা দাবি করেছিল বলে জানান তারা। ফরহাদ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
তবে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফরহাদ নিজেও ‘পাটালি গ্রুপ’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন। বোটঘাট ও ময়ূরভিলা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষই মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার। পূর্ববিরোধের জের ধরে তারা আরশিনগরে এসে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।