শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাপুঁজিবাজারে দরপতন ও কারসাজি: নিঃস্ব লাখো বিনিয়োগকারী, বহাল তবিয়তে ‘সিন্ডিকেট’

পুঁজিবাজারে দরপতন ও কারসাজি: নিঃস্ব লাখো বিনিয়োগকারী, বহাল তবিয়তে ‘সিন্ডিকেট’

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:

আমার সন্তানেরা বড় হয়ে কেউ পুঁজিবাজারে পা রাখবে না’—প্রতিদিন এভাবেই চার সন্তানকে শপথ করান মা আমিনা খাতুন। তাঁর স্বামী সাইফুল আলম পুঁজিবাজারে সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব। এক সময় ধানমণ্ডির ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের সক্রিয় বিনিয়োগকারী ছিলেন তিনি। আজ তার দিন কাটে হতাশা ও গ্লানিতে।

পুঁজিবাজারে চলমান দরপতন ও ফোর্সড সেলের ফলে সাইফুল আলমের মতো অসংখ্য বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়েছেন। অন্যদিকে, আবুল খায়ের হিরুর মতো মাস্টারমাইন্ডরা এখনো বহাল তবিয়তে বাজারে কারসাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। 'দরবেশ' খ্যাত সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) দাবি অনুযায়ী, বর্তমান বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সময়কালে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। সোশ্যাল মিডিয়ার জরিপে উঠে এসেছে যে, পুঁজিবাজারের ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী এখন পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লোটাস কামাল, সালমান এফ রহমান, শিবলী রুবাইয়াত ও আবুল খায়ের হিরুর নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে শেয়ার কারসাজিতে যুক্ত। ২০১০ সালের ভয়াবহ ধসের সময়ও এই সিন্ডিকেটের নাম উঠে আসে। তবে কোনোদিনই তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই চক্র শুধুমাত্র শেয়ার কারসাজিই করেনি, বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষপদগুলোতেও নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের বসিয়ে রেখেছিল, যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই চলতে পারে লুণ্ঠন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।

বিএসইসি-র তদন্ত কমিটির সদস্য ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, “১৯৯৬ ও ২০১০ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির তদন্তে অনেক তথ্য বের হলেও দোষীদের শাস্তি হয়নি। বরং সেই ‘দরবেশ’রা দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে গেছেন। এখনো তাঁদের অনুসারীরা সক্রিয়।”

আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও বাজারে সেই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। গত ৯ মাসে ডিএসইএক্স সূচক হারিয়েছে ১২২৫ পয়েন্ট। সর্বশেষ গতকাল (রবিবার) প্রধান সূচকটি ২৯.৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭৯১ পয়েন্টে। লেনদেনও নেমে এসেছে মাত্র ২৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকায়।

বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার চরম অভাব তৈরি হয়েছে। সিন্ডিকেটের কারসাজি, অনিয়ম এবং দায়হীনতা না থামলে এই পতন আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।