জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে জনগণের ‘কাইন্ড’ হওয়া দরকার: জাহেদ উর রহমান
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জনগণের কষ্ট হচ্ছে এবং আরও হতে পারে উল্লেখ করে তাদের ‘কাইন্ড’ বা দয়ালু হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সরকার অজনপ্রিয় হয়ে পড়ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্রেও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি নির্বাচনে জ্বালানির দামের প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। সরকার জেনে-বুঝে জনগণকে অসন্তুষ্ট করার কোনো কারণ নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে ঝুঁকি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জনগণের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জনগণের একটু দয়ালু হওয়া প্রয়োজন। কারণ সরকারের পক্ষেও সবসময় জ্বালানি খাতে কতটা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব, সেটি বিবেচনায় নিতে হয়।
জ্বালানির দাম বাড়াতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই
জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত বা চাপ নেই। তবে আইএমএফের সাধারণ নীতি হলো, কোনো সরকার যেন অতিরিক্ত ভর্তুকি না দেয়।
তিনি বলেন, সরকার সব ক্ষেত্রে আইএমএফের সব নিয়ম অনুসরণ করছে—বিষয়টি এমন নয়। বিভিন্ন কার্ড প্রকল্পের ক্ষেত্রেও আইএমএফের পুরোপুরি সম্মতি নেই। তবে জনগণের কল্যাণ বিবেচনা করেই সরকার এসব উদ্যোগ নিয়েছে।
ভর্তুকির পাশাপাশি স্বাস্থ্য-শিক্ষায় ভারসাম্যের কথা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সংকটের সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। কোনো একটি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়া হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমে যেতে পারে।
শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের সরকারকে জনগণ নিজেদের সরকার হিসেবে গ্রহণ করেনি এবং সেটি বৈধ বা নির্বাচিত সরকার ছিল না। অন্যদিকে বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত।
পে-স্কেল, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক সুরক্ষা
জাহেদ উর রহমান জানান, ২০১৫ সালের পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল সংশোধন করা হয়নি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় নতুন সরকারি চাকরিজীবীদের সংসার চালাতে সমস্যা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগ
দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করতে পারে। তবে ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা বাসে আগুন দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।