যন্তর মন্তরে বিরোধী এমপিদের নিয়ে বিক্ষোভের ঘোষণা রাহুলের
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
বুধবার (৭ অক্টোবর) লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রায় ৩০০ বিরোধী সংসদ সদস্যকে নিয়ে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রায় ৩০০ বিরোধী সংসদ সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের দিকে যেতে চাইলে দিল্লি পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। পরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালনে বাধা পেয়ে বিরোধীরা যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধী দলগুলোর কাছে জ্ঞানেশ কুমার ‘বৈধ প্রধান নির্বাচন কমিশনার’ নন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আয়োজনে বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যদের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকের পর বুধবার নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসে। সিপিআই(এম) নেতা জন ব্রিটাস বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার জন্য এই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির আকাশবাণী ভবনের ভেতর থেকে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে তারা সেখানে প্রায় নয় ঘণ্টা অবস্থান করেছিলেন।
একই দিন সকালে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ‘নির্বাচন সদন’ অভিমুখে পদযাত্রা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে কর্মসূচিটি আর এগোয়নি।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, বিরোধীদের পরবর্তী কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হবে। তিনি মাসব্যাপী আন্দোলনের একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছেন।
রূপরেখা অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ১০ থেকে ২০ অক্টোবর ব্লক ও তৃণমূল পর্যায়ে সমন্বয় সভা হবে। এরপর ২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে রাজ্যভিত্তিক ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকও আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার সংগঠনটির সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এ বিষয়ে একটি নোটিশ জমা দেন। কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিতে পারেন বলেও পুলিশকে জানানো হয়েছে।