ড. ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিএনপি-জামায়াতকে বৈঠকে আমন্ত্রণ
প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের অস্পষ্ট অবস্থান ঘিরে উদ্ভূত সংকট নিরসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার রাতে পৃথক দুটি বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। রাত সাড়ে ৭টায় বিএনপি ও সাড়ে ৮টায় জামায়াতের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’য় সাক্ষাৎ করবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সাড়ে ৭টায় সাক্ষাতের সময় আমাদের জানানো হয়েছে।’
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, ‘জামায়াতের আমির ইতিমধ্যেই সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে আমরা সময় চেয়েছিলাম এবং আজ রাতে সাক্ষাতের সময়সূচি দেওয়া হয়েছে।’
বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং জামায়াতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ একনেক বৈঠকের পর ড. ইউনূস উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন, যেখানে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হতে পারে। ঘনিষ্ঠ মহল তাকে পরামর্শ দিয়েছেন, দলীয় উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। ফলে আজই জরুরি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হতে পারে।
তারা আরও জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে ড. ইউনূস যেন সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করেন, সে পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংলাপের আহ্বান বাড়ছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
এদিকে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর মধ্যে চলমান আলোচনা থেকে জানা গেছে, তারা চান এই পরিস্থিতিতে ইউনূস পদত্যাগ না করেন। তবে দলটির অভিমত—ড. ইউনূস যদি একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন, তাহলে রাজনৈতিক সংকট অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে।