বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
হোম › অর্থনীতি-ব্যবসা › মূল্যস্ফীতির শঙ্কায় বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

মূল্যস্ফীতির শঙ্কায় বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
মূল্যস্ফীতির শঙ্কায় বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আসন্ন সুদের হারবিষয়ক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বর্ণের বাজারে এ পরিস্থিতির প্রভাব দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।


মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২০ দশমিক ৪৯ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৯ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়।


এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হুতিদের হামলা এবং পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলার খবর জ্বালানি বাজারে নতুন ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।


আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভট্রেডসের প্রধান নির্বাহী রিচার্ডো এভানজেলিস্তার মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এতে ফেডের কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা এবং সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও জোরালো হতে পারে।


শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়তে পারে—এমন সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।


সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় এমন সম্পদের আকর্ষণ বাড়ে। ফলে কোনো সুদ না দেওয়া স্বর্ণের চাহিদা কমে গিয়ে দামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


অন্যদিকে, জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা জানিয়েছেন, দেশটির মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতি সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ১১০ দশমিক ০৬ ডলারে নেমেছে।