শনিবার , ২৪ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার , ২৪ অক্টোবর ২০২৬
হোম › শিক্ষা › ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, ব্যয় ৪৯ কোটি টাকা

৩৮ হাজার শিক্ষার্থীকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, ব্যয় ৪৯ কোটি টাকা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
৩৮ হাজার শিক্ষার্থীকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, ব্যয় ৪৯ কোটি টাকা

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩৮ হাজার ১৮০ শিক্ষার্থীকে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্যের অপব্যবহার, অনলাইন প্রতারণা এবং সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের ‘দেশের শিশু-কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি। চলতি বছর শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৯ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


প্রকল্পের আওতায় ৩৮ হাজার ১৮০ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি ২ হাজার ৪৭৫ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে ৫০৫টি কর্মশালার আয়োজন করা হবে। সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক দুটি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হবে।


প্রকল্পটির ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় বিধি অনুযায়ী পরিকল্পনামন্ত্রী এতে অনুমোদন দিয়েছেন। বিষয়টি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার কথা রয়েছে।


জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মুখপাত্র হোসেন বিন আমিন বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন বুলিংয়ের প্রবণতাও বাড়ছে। বিশেষ করে মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি জেলার গ্রাম পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সচেতন করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। শিক্ষকদের জন্যও সহায়ক প্রশিক্ষণ উপকরণ তৈরি করা হবে।


সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী হত্যার পর তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তার মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়।


এ ছাড়া ধর্ষণের পর কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনকে হত্যার ঘটনাও শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অনলাইনে অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, সাইবার বুলিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধ অনেক সময় বাস্তব জীবনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, দেশে সক্রিয় রয়েছে ৩৮৬টি কিশোর গ্যাং। এসব গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা অন্তত ৪ হাজার ২৫০। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ১৫৯টি গ্যাংয়ে সদস্য রয়েছে ১ হাজার ৮১২ জন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের কৌশল শেখালেই হবে না, সাইবার জগৎ সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। তারা অনলাইনে ঝুঁকিতে পড়ছে কি না কিংবা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।


ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান জোহা বলেন, সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দেশে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, হালনাগাদ পাঠ্যক্রম এবং গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। কোথায় অভিযোগ করতে হবে এবং ডিজিটাল আলামত কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, সে বিষয়েও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।