শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ‘পুলিশ-লাঠি নিয়ে চিন্তা করবেন না’, ১ নভেম্বর দিল্লি মার্চে যোগ দিতে বললেন রাহুল গান্ধী

‘পুলিশ-লাঠি নিয়ে চিন্তা করবেন না’, ১ নভেম্বর দিল্লি মার্চে যোগ দিতে বললেন রাহুল গান্ধী

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
‘পুলিশ-লাঠি নিয়ে চিন্তা করবেন না’, ১ নভেম্বর দিল্লি মার্চে যোগ দিতে বললেন রাহুল গান্ধী

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আগামী ১ নভেম্বর ‘চলো দিল্লি রামলীলা মার্চ’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে গণতন্ত্র, সংবিধান ও ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।


একই সঙ্গে পুলিশ ও লাঠিচার্জ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাহুলের দাবি, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কোনো ধরনের ‘কৌশল’ প্রয়োগের সাহস পাবে না।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই মিছিল কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নয়; বরং ভারতের আত্মাকে রক্ষার জন্য।


### শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় আগ্রহী সবার প্রতি তাঁর এই আহ্বান।


শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে মিছিলে অংশ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, যাঁরা মনে করেন ভারত কিংবা তাঁদের নিজেদের মতপ্রকাশ, চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি হুমকির মুখে, তাঁদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া উচিত।


তিনি বলেন, সংবিধান রক্ষা এবং ভারতীয় রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে হাঁটতে হবে।


এ বিষয়ে বিজেপি কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


### রামলীলা ময়দান ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা


ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে এই সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।


সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা যাতে যন্তর মন্তরসহ নিষিদ্ধ এলাকায় মিছিল নিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দিল্লি পুলিশ।


একসময় দিল্লিতে বিক্ষোভ-সমাবেশের নির্ধারিত স্থান ছিল যন্তর মন্তর। তবে বর্তমানে সেটিকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে শহরের তিনটি নতুন স্থানকে সমাবেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


চলতি মাসেও দিল্লিতে কয়েক হাজার মানুষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষ মেট্রো চলাচল বন্ধ, ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন ও নিষেধাজ্ঞা জারির মতো পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


### ৫০ হাজার মানুষের সমাগমের আশঙ্কা


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ধারণা, রাজধানীসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মানুষ এই সমাবেশে যোগ দিতে পারেন।


সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। নজরদারির জন্য স্থাপন করা হবে প্রায় ১৫০টি উচ্চ রেজল্যুশনের ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসক্ষম সিসিটিভি ক্যামেরা। ক্যামেরার সরাসরি চিত্র পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা দিতে সমাবেশস্থলের কাছে অস্থায়ী পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষও স্থাপন করা হবে।


নিরাপত্তাকর্মীদের অধিকাংশের শরীরে থাকবে ধারণযন্ত্রযুক্ত ক্যামেরা। দায়িত্ব পালনের সময় এসব ক্যামেরায় আশপাশের কর্মকাণ্ড ধারণ করা হবে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, হয়রানি বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলে ধারণ করা ভিডিও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।


### নেতাদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা


প্রায় ১২ একর আয়তনের রামলীলা ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে। মাঠটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আটটি ফটক রয়েছে। এর মধ্যে একটি ফটক রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের যাতায়াতের জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


সমাবেশে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ জন্য রামলীলা ময়দানের একটি ফটক নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।


সমাবেশে আসা ব্যক্তিদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে রাজঘাট ও মাতা সুন্দরী কলেজের আশপাশে। সেখান থেকে হেঁটে তাঁদের সমাবেশস্থলে যেতে হবে। তবে কাউকে নয়াদিল্লি এলাকার দিকে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।