মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
হোম › জাতীয় › সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সরকারি ক্রয় আইন, মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সরকারি ক্রয় আইন, মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সরকারি ক্রয় আইন, মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন

দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে দুটি আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অনুমোদিত আইন দুটি হলো—‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’।


সোমবার (২ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের ২৬তম বৈঠকে আইন দুটির খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়।


বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। এর আগে দেশে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছিল।


সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে উপস্থাপন করে আইনে পরিণত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপ দিতে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়। পরে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে মন্ত্রিসভা এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।


অন্যদিকে, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) উদ্যোগে প্রণীত খসড়াটি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।


সরকারি ক্রয়ের মূল আইনি কাঠামো হিসেবে ২০০৬ সালে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে আইনটি ছয় দফায় সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে এতে পরিবর্তন আনা হয়।


দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সর্বশেষ অধ্যাদেশে বেশ কিছু নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী দরপত্রদাতা এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সংরক্ষণের বিষয়টি রয়েছে।


এ ছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যক্রম আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধিকতর ব্যবহার এবং পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান আরও স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থা চালুর বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশের মাধ্যমে জারি করা বিধান স্থায়ী আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উপস্থাপন করতে হয়। এ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই দ্বিতীয় সংশোধনী আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।


খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ও আইএমইডির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে মন্ত্রিসভা এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।