মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া এবং অঞ্চলটি থেকে দীর্ঘ সময় তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৯৬ ডলার ৬৬ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ৮০ সেন্টে পৌঁছায়।


এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) উভয় মানদণ্ডের তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমেছিল। ইরান ও কাতারের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। এর প্রভাবেই তেলের দামে বড় পতন ঘটে।


তবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের কয়েকজন এ অভিযানকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার সুযোগ সীমিত করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।


হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেলের বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, এ খবর তেলের দামে ঝুঁকিজনিত মূল্য সংযোজন করেছে। বাজার যখন কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছিল, তখন সামরিক তৎপরতার খবর পরিস্থিতির চিত্র বদলে দিয়েছে।


তবে হামলার খবরের পরও তেলের দাম খুব বেশি বাড়েনি। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব ইতোমধ্যে অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে। তাই নতুন সামরিক তৎপরতার খবর এলেও সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী দরবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা কম।


ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেবা মনে করেন, জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হলে শুধু নতুন সামরিক তৎপরতার খবরের ভিত্তিতে তেলের বাজারে বড় ধরনের উত্থান ধরে রাখা কঠিন হবে।


যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যোগাযোগ অব্যাহত


এদিকে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে তেহরান। এর আগে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে কয়েক দিনের আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষের প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন এলেও আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।


অন্যদিকে, ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার বিষয়ে আগের হুমকি কার্যকর করা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি। ফলে সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে নৌপথটিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


এই সংঘাতের বড় প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। দেশটিতে পেট্রোলের উচ্চমূল্যের পেছনে যুদ্ধকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানির বাড়তি দাম মার্কিন ভোটারদের ওপর চাপ তৈরি করায় যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।


এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারে প্রভাব ফেলেছে।


অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনি শান্তি আলোচনার জন্য সরকারকে বিশেষ কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন। এর ফলে যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।