বৃহস্পতিবার , ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৫ নভেম্বর ২০২৬
হোম › তথ্যপ্রযুক্তি › তথ্য খোঁজায় গুগলের ২০ শতাংশের সমান চ্যাটজিপিটি, দাবি প্রতিবেদনে

তথ্য খোঁজায় গুগলের ২০ শতাংশের সমান চ্যাটজিপিটি, দাবি প্রতিবেদনে

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
তথ্য খোঁজায় গুগলের ২০ শতাংশের সমান চ্যাটজিপিটি, দাবি প্রতিবেদনে

ইন্টারনেটে তথ্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে গুগল। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মানুষের তথ্য খোঁজার অভ্যাস। প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনের পরিবর্তে সরাসরি প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়ার সুবিধায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটিতে সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ গুগলের মোট অনুসন্ধানের প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছেছে।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপেনএআইয়ের ভোক্তা পণ্য বিভাগের প্রধান অ্যাডাম ফ্রাই সম্প্রতি ‘বিগ টেকনোলজি’ নিউজলেটারের জন্য অ্যালেক্স কান্ট্রোভিটজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য তুলে ধরেন।


অ্যাডাম ফ্রাই জানান, মাত্র দুই মাসে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি থেকে বেড়ে ১২০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ে ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় ২০ কোটি।


তথ্য অনুসন্ধানে বদলাচ্ছে অভ্যাস


চ্যাটজিপিটির জনপ্রিয়তা বাড়ার পেছনে ব্যবহারকারীদের তথ্য অনুসন্ধানের অভ্যাস পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনে কোনো বিষয় লিখলে একাধিক ওয়েবসাইটের লিংক পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে ব্যবহারকারীকে সেসব ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখতে হয়।


অন্যদিকে, চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এক জায়গায় সাজিয়ে সরাসরি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে অনেক ব্যবহারকারী দ্রুত তথ্য পেতে এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছেন।


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপেও এআই চ্যাটবট ব্যবহারের প্রবণতা উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা তথ্য অনুসন্ধানের কাজে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন। কর্মজীবীদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ কাজের প্রয়োজনে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।


জরিপে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৪ শতাংশ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনি ব্যবহার করেছেন ২৪ শতাংশ।


অ্যাডাম ফ্রাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ এখন ব্যক্তি, স্থান ও বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করছেন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানেও এআই চ্যাটবটের ব্যবহার বাড়ছে।


এখনো এগিয়ে গুগল


তবে এসব পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে সার্চ ইঞ্জিনের বাজারে গুগলের আধিপত্য শেষ হয়ে যাচ্ছে। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের দাবি, তাদের সার্চ ইঞ্জিনে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি অনুসন্ধান করা হয়।


অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাইও মনে করেন, এআই চ্যাটবটের জনপ্রিয়তা বাড়লেই গুগলের সার্চ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এমনটি নয়। তাঁর মতে, একটি ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়লে অন্যটির ব্যবহার কমতেই হবে—বিষয়টি এমন নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি টিকটকের জনপ্রিয়তা বাড়ার পরও ইউটিউবের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।


এদিকে গুগলের সার্চ ফলাফলের মান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারকারীদের একাংশের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইওনির্ভর ওয়েবসাইটের আধিক্যের কারণে প্রয়োজনীয় ও নির্ভরযোগ্য তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী গুগলে অনুসন্ধানের সময় নির্দিষ্ট আলোচনার জন্য ‘রেডিট’ শব্দটিও যুক্ত করেন।


তবে সরাসরি উত্তর পাওয়ার সুবিধা থাকলেও চ্যাটজিপিটির দেওয়া তথ্য সব সময় নির্ভুল নয়। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তারপরও দ্রুত তথ্য পাওয়ার সুবিধা এআই চ্যাটবটকে ব্যবহারকারীদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় করে তুলছে।


বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির সার্চধর্মী প্রশ্নের পরিমাণ গুগলের মোট অনুসন্ধানের ২০ শতাংশে পৌঁছানোর অর্থ এই নয় যে গুগলের সমপরিমাণ ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটিতে চলে গেছেন। বরং এটি দুই প্ল্যাটফর্মের অনুসন্ধানের পরিমাণের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে। তবে তথ্য অনুসন্ধানের প্রচলিত পদ্ধতিতে এআই চ্যাটবট যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে, তা স্পষ্ট।