যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে এই প্রভাব পড়েছে। খবর রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত জ্বালানি পণ্যটির দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।
শুক্রবার পর্যন্ত এই দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালের এপ্রিলের পর এটিই হবে তেলের দামের সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের ফলে দেশটির সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। সংঘাতের অবসান ঘটলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে তেলের দাম কমার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে ইউরোপের শেয়ারবাজারও গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
তবে এশিয়ার বাজারে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। বিশেষ করে চিপ ও তথ্যকেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৪ শতাংশ, তাইওয়ানের শেয়ারবাজার ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই সূচক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যকেন্দ্র ও চিপের চাহিদা দীর্ঘ মেয়াদে কমবে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব খাতের সম্প্রসারণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে ধীর হয়ে আসতে পারে।