নির্বাচনে ভরাডুবির পর রিপাবলিকান শিবিরে দোষারোপের রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনা ও পরস্পরকে দোষারোপের পালা। নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন দলটির কয়েকজন নেতা। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। খবর বিবিসির।
গত ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় নির্বাচনী ধাক্কার মুখে পড়ার পর রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে দলের ব্যর্থতার কারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণেই নির্বাচনে তাদের এই পরাজয় হয়েছে। ভবিষ্যতে দলের করণীয় নির্ধারণের আলোচনা এই বিষয়টি দিয়েই শুরু করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভ্যান্সের এমন অবস্থানকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তাদের ধারণা, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও ইরান যুদ্ধের দায় প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর চাপিয়ে দিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি।
এদিকে হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম নির্মাণস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প।
তবে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যায় না। একই পরিস্থিতি আবার তৈরি হলেও তিনি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতেন না।
অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনী পরাজয়ের পর রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব, যুদ্ধনীতি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।