বৃহস্পতিবার , ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৫ নভেম্বর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভ্যান্স?

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভ্যান্স?

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভ্যান্স?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর এ বক্তব্যকে ঘিরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ভ্যান্স।


বুধবার (৪ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে দেওয়া বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।


ইরান যুদ্ধের বিষয়ে ভ্যান্সের অবস্থান নিয়ে আগে থেকেই প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা ছিল। প্রকাশ্যে তিনি বারবার যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানালেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকে এর বিরোধিতা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এত দিন তাঁর এই মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি।


বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রায় ৬০০ শব্দের এক বিবৃতিতে ভ্যান্স লেখেন, ‘আপনি যদি মনে করেন, আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিনিময়েও এই যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে, তাহলে সরাসরি সেটাই বলুন।’


তিনি আরও বলেন, কেন এই মূল্য দেওয়া যৌক্তিক ছিল, তা যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা উচিত। তাঁর ভাষায়, কেউ একমত হোন বা না হোন, অন্তত সেটি হবে একটি সৎ অবস্থান।


ভ্যান্সের এ বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে দায়িত্বে থাকা কোনো ভাইস প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সরাসরি প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে সরে আসার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না।


তবে এ ঘটনায় আরও বিস্ময় তৈরি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণত ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও সহযোগীদের কাছ থেকে নিঃশর্ত আনুগত্য প্রত্যাশা করলেও এবার ভ্যান্সের বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটাই একমত পোষণ করেছেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই’ ইরান যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, একই পরিস্থিতি আবার তৈরি হলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তই নিতেন।


ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে এমন একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ভ্যান্স প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁকে নিজের অবস্থান থেকে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে পারেন ট্রাম্প। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে ভ্যান্সের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।