. সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার দুই দিনের রিমান্ড
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান গত ২৭ অক্টোবর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। এদিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
প্রথমে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল, জাকারিয়া হায়দারসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় নিবাস মজুমদারসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ জাহিদুল হক মামলা করেন।
গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন সোনা ও হীরা চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের মামলায় তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
এরপর ২১ অক্টোবর আ. জব্বার হত্যাচেষ্টার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং দুই দফায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২ নভেম্বর দুর্নীতির একটি মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালানো হয়।
পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের পর নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্ত হন।
দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।