বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতার পদত্যাগ, অভিযোগ গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের
বরিশাল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার তিন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। সংগঠনটি "গণবিরোধী প্ল্যাটফর্মে" রূপ নিচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তারা এই সিদ্ধান্ত নেন। রোববার (১ জুন) রাত ৮টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তারা।
পদত্যাগকারীরা হলেন—জেলা মুখ্য সংগঠক হাসিবুল ইসলাম তুরান, যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম আবিদ এবং সদস্য তাহাসিন আহমেদ রাতুল।
অপকর্ম, চাঁদাবাজি ও রাজনীতিকরণ—অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু
পদত্যাগী নেতারা অভিযোগ করেন, সংগঠনের বর্তমান জেলা ও মহানগর কমিটির অধিকাংশ নেতা নানান অপকর্মে জড়িত। প্রায় ৫০ শতাংশ নেতাকর্মী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে সংগঠনকে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিস্বার্থে। তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তদবির, চাঁদাবাজি ও মামলার বিনিময়ে টাকা লেনদেনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাসিবুল ইসলাম তুরান বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশপন্থি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলা। কিন্তু এখন এই প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিস্বার্থ, দলীয় এজেন্ডা ও দুর্নীতি দানা বেঁধেছে। আমার নাম ব্যবহার করে সংগঠনের এক নেতা, মহসিন উদ্দিন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। এ সব কর্মকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
তিনি আরও বলেন,
“রাজনৈতিক শিক্ষাবিহীন, উদ্দেশ্যহীন মব তৈরি হচ্ছে। নারীদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সম্ভাবনাও উপেক্ষিত।”
পাল্টা প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মহসিন উদ্দিন। তিনি বলেন,
“তুরান নামটি স্থানীয় কর্মীর ছদ্মনাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনারের তদন্তে চাঁদাবাজির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।”
জেলা আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন,
“পদত্যাগকারীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারা কখনও সংগঠনের মধ্যে থেকে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেনি। এখন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য চলে যাচ্ছে।”
প্রেক্ষাপট
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে শুরু হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির অভিযোগ সংগঠনটির ভাবমূর্তিতে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।