স্বাধীনতা নিজের হাতে নিন’—বিক্ষোভকারীদের ঘোষণা সার্বিয়ার রাজপথে
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের ১২ বছরের শাসনের অবসান ও তাৎক্ষণিক নির্বাচনের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে শহরটি। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে, সংঘর্ষে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী আটক ও ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়।
শনিবার (২৮ জুন) প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বিক্ষোভকারী “আমরা নির্বাচন চাই” স্লোগান নিয়ে স্লাভিয়া স্কোয়ার ও আশপাশের এলাকায় সমবেত হন। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন চলমান আন্দোলনের এটি ছিল অন্যতম বৃহৎ সমাবেশ।
এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত নভেম্বরে নোভি সাদে একটি রেলস্টেশন ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকে, যার জন্য অবকাঠামোগত দুর্নীতি ও অবহেলাকে দায়ী করছেন নাগরিকরা।
বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ভুচিচকে নির্বাচন দিতে রাত ৯টা পর্যন্ত সময় দেন, তবে সাড়া না মেলায় তাঁরা “স্বাধীনতা নিজের হাতে নিন” স্লোগান দিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন।
ভুচিচ এই বিক্ষোভকে “বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র” দাবি করে বলেন, “তারা সার্বিয়াকে উৎখাত করতে চেয়েছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি বলেন, পুলিশ সংযত থাকবে, তবে কেউ নাশকতা করলে আইনের আওতায় আনা হবে।
সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভ রুখতে সরকার ‘বোমা হামলা’ গুজব ছড়িয়ে রেল পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। এমন কৌশল গত মার্চেও দেখা গেছে, যখন লাখো মানুষ সার্বিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল।
এদিকে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘সংবিধানবিরোধী’ তৎপরতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে, এবং কয়েকজন বিদেশি নাট্যব্যক্তিত্বকে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
ভুচিচ আগেই তাৎক্ষণিক নির্বাচন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। তবে বিরোধীদের দাবি, সরকার অপরাধ, দুর্নীতি ও গণতন্ত্র হরণে লিপ্ত।
এই প্রতিবেদন তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, এএফপি, রয়টার্স।