যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা বাদ দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে আগ্রহ দেখালেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এর আগে ওয়াশিংটনকে ইরানের ওপর যেকোনো অতিরিক্ত সামরিক হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বার্তা দেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি।
তিনি বলেন, "আমরা শান্তি চাই, কিন্তু আলোচনা চলাকালে যদি হামলা হয়—এটা মেনে নেওয়া যায় না।"
তাখত-রাভানচি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আলোচনায় ফিরতে চায়। তবে তাদের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট যে, আলোচনার সময় হামলা হবে কিনা। এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর চায় ইরান।
তিনি বলেন, “ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে আমরা আপস করব না, কারণ এটি আমাদের শান্তিপূর্ণ অধিকার। সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবি—এটা ‘জঙ্গলের আইন’।”
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী ইরান ৩.৬৭% ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানও নিয়ম ভেঙে ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে ৯টি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব।
তখনো আলোচনা শুরুর কোনো নির্ধারিত তারিখ নেই, জানিয়ে তাখত-রাভানচি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত।”
ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলাকে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দোসর হয়ে উঠেছে। যাদের আমেরিকাকে সমালোচনা করার সাহস নেই, তাদের চুপ থাকা উচিত।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কর্তৃক “ইরানে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান” প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা ব্যর্থ প্রচেষ্টা। ইরানিরা সরকারের সমালোচনা করলেও, দেশের ওপর বিদেশি আক্রমণের বিরুদ্ধে তারা একত্রিত হয়ে দাঁড়াবে।”
তিনি আরও জানান, পারস্য উপসাগরের কয়েকটি মিত্র দেশ শান্তিপূর্ণ সংলাপের পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করছে, এবং কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।