সোমবার , ২৭ জুলাই ২০২৬
সোমবার , ২৭ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বগাজায় সহিংসতা চলছেই, স্কুলে ড্রোন হামলায় প্রাণহানি

গাজায় সহিংসতা চলছেই, স্কুলে ড্রোন হামলায় প্রাণহানি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:

গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।


শুক্রবার (৪ জুলাই) হামাস জানায়, কাতার ও মিশরের মাধ্যমে তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইতিবাচক জবাব দিয়েছে এবং আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। প্রস্তাবে জিম্মিদের মুক্তি ও সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের কথাও বলা হয়েছে।


হামাসের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছি। এটি একটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, যা চুক্তি অর্জনে সহায়ক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”


সংগঠনটি আরও জানায়, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের লক্ষ্যে তারা নিজেদের অভ্যন্তরে এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করেছে। যুদ্ধবিরতির কাঠামোর আলোকে তারা তাৎক্ষণিক আলোচনায় অংশ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি ৬০ দিনের প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি বলেন, ইসরাইল এরইমধ্যে এই প্রস্তাবের প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে নিয়েছে। এই সময়ে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের প্রচেষ্টা চলবে।


তবে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলাকালেই গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার গাজা সিটির আল-সাবরা গার্লস স্কুল এবং আল-হুররিয়া স্কুলে ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হন। খান ইউনিস, জাবালিয়া ও রাফায়ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।


রাফায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের ফিল্ড হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী। সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের হামলা এখন গাজার প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।


জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরাইল গাজার ৮৫ শতাংশ এলাকাকে সামরিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। শুধু মার্চের পর থেকে নতুন করে গৃহহীন হয়েছেন ৭ লাখ ১৪ হাজার মানুষ। গাজায় চার মাস ধরে প্রবেশ করেনি একফোঁটাও জ্বালানি। কার্যত ভেঙে পড়েছে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা—নাসের হাসপাতাল এখন এক বিশাল ট্রমা ওয়ার্ডে রূপ নিয়েছে।


জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমর্থনে পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্র ও কনভয়ের আশপাশে অন্তত ৬১৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু ও তরুণ।