সোমবার , ২৭ জুলাই ২০২৬
সোমবার , ২৭ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বজোহরান মামদানির জয়, ট্রাম্প-মোদি যুগে প্রতিরোধের প্রতীক

জোহরান মামদানির জয়, ট্রাম্প-মোদি যুগে প্রতিরোধের প্রতীক

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জোহরান মামদানির জয়, ট্রাম্প-মোদি যুগে প্রতিরোধের প্রতীক

নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনের প্রাথমিক পর্বে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পেয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন জোহরান মামদানি। যদি তিনি আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে তিনিই হবেন নিউইয়র্ক শহরের প্রথম দক্ষিণ এশীয়, প্রথম মুসলিম এবং প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র।


এই সম্ভাবনা একদিকে যেমন প্রগতিশীল মহলে আশার আলো ছড়িয়েছে, অন্যদিকে তা উসকে দিয়েছে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—বিশেষত ভারতের হিন্দুত্ববাদী মহল এবং প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অংশের মধ্যে।


📌 ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিদ্বেষ

৩৩ বছর বয়সী মুসলিম এই প্রগতিশীল রাজনীতিককে ঘিরে হিন্দুত্ববাদী মহলে ছড়িয়ে পড়েছে বিদ্বেষ। কেউ তাকে ‘জিহাদি’, কেউবা ‘ভারতবিরোধী’ বলে আক্রমণ করছেন। এমনকি অভিযোগ উঠেছে, তিনি হিন্দুধর্ম ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে জড়িত।


ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা Center for the Study of Organized Hate-এর গবেষক কায়লা ব্যাসেট বলেন, “জোহরানকে টার্গেট করার মধ্য দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কেই সন্দেহের চোখে দেখানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে।”


📌 বিজেপির প্রতিক্রিয়া ও মিডিয়া প্রচার

জোহরান মানবাধিকার ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার, ভারতের গুজরাট দাঙ্গা থেকে গাজা পর্যন্ত—যেখানেই অন্যায় হয়েছে, সেখানেই কথা বলেছেন। এই অবস্থান বিজেপির অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত বলেন, “জোহরান ভারতীয় কম, পাকিস্তানি বেশি শোনায়।” এমনকি তার মা, চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারের হিন্দু পরিচয় তুলে ধরে কঙ্গনা অভিযোগ করেন, “তিনি হিন্দুধর্ম ধ্বংসে লিপ্ত।”


‘আজ তক’-সহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমে জোহরানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি ‘ইন্ডিয়ান আমেরিকানস ফর কুমো’ নিউইয়র্কের আকাশে ‘জোহরানকে প্রত্যাখ্যান করুন’ ব্যানারবাহী উড়োজাহাজ ওড়ায়।


📌 দৃঢ় অবস্থান ও প্রতিরোধের প্রতীক

২০২০ সালে টাইমস স্কয়ারে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় উমর খালিদের লেখা পাঠ করে শোনানো—জোহরান বারবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সম্প্রতি তিনি মোদিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলেও মন্তব্য করেন।


সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রোহিত চোপড়া মনে করেন, ২০০২ সালের দাঙ্গার সত্য তুলে ধরার কারণেই তিনি হিন্দুত্ববাদীদের চোখে 'বিপজ্জনক' হয়ে উঠেছেন।


📌 শ্রেণি ও পরিচয়ের সংঘাত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ আয়ের হিন্দু প্রবাসীরা প্রান্তিক ভারতীয় ও মুসলিম অভিবাসীদের সঙ্গে নিজেদের একাত্মতা খুঁজে পান না। ফলে, জোহরানের শ্রেণি ও ধর্মীয় পরিচয় তাকে সন্দেহের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।


📌 জনভিত্তি ও জনপ্রিয়তা

পিউ রিসার্চ সেন্টার বলছে, নিউইয়র্কে ৭ লাখ ১০ হাজার ভারতীয় বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাস করেন। ১ জুলাইয়ের নির্বাচনে জোহরান প্রাথমিক পর্বে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে ৫৬–৪৪ শতাংশ ভোটে হারিয়ে এশীয় অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক সমর্থন পান।


সুচিত্রা বিজয়ন, ‘Polis Project’-এর প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “জোহরান তার মুসলিম পরিচয় গর্বের সঙ্গে বহন করেন, সেটাই কিছু মহলে অস্বস্তির কারণ।”


📌 ট্রাম্পবিরোধী এক চেহারা

NYU অধ্যাপক অরবিন্দ রাজাগোপাল বলেন, “জোহরান আজ ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষের একটি শক্তিশালী জবাব।”

তিনি আরও বলেন, “জোহরান শুধু ইংরেজি নয়, স্প্যানিশ, হিন্দি, উর্দু এমনকি কিছু বাংলা বলতে পারেন। এমন প্রার্থী আজ বিরল।”


ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বলেছিলেন, “মুসলিমদের আমেরিকায় প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত।” সেই ট্রাম্পের সময়েই তারই বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন জোহরান মামদানি—এক সাহসী, দৃঢ়চেতা রাজনৈতিক প্রতিচ্ছবি হয়ে।