সোমবার , ২৭ জুলাই ২০২৬
সোমবার , ২৭ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক, গাজা যুদ্ধবিরতির আশার আলো

ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক, গাজা যুদ্ধবিরতির আশার আলো

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক, গাজা যুদ্ধবিরতির আশার আলো

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২১ মাসের রক্তক্ষয়ী গাজা যুদ্ধে বিরতির সম্ভাব্য চুক্তির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।


ওয়াশিংটন যাওয়ার আগে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা এমন একটি চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি, যা আমাদের শর্তানুযায়ী কার্যকর হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এই আলোচনা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়ক হবে।”


এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি সংঘাত বন্ধে 'অত্যন্ত দৃঢ়' অবস্থানে রয়েছেন এবং চলতি সপ্তাহেই একটি চুক্তি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


রোববার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কাতারে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনাও পুনরায় শুরু হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয়—একটি মার্কিন-সমর্থিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময় চুক্তি। তবে আগের মতো এবারও কিছু মূল মতপার্থক্য আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।


গাজায় ক্রমবর্ধমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বেইত লাহিয়া থেকে গাজা শহরে পালিয়ে আসা বাসিন্দা নাবিল আবু দায়াহ বলেন, “আমি যুদ্ধবিরতি চাই না, চাই স্থায়ী যুদ্ধসমাপ্তি। ৬০ দিন পর আবার গোলাবর্ষণ শুরু হবে—এই ভয়েই বাঁচতে হচ্ছে।”


গত শনিবার গাজায় আটক প্রায় ৫০ জন ইসরায়েলি বন্দির মুক্তির দাবিতে বড় সমাবেশ হয়। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—কেন সব বন্দিকে একসাথে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। ইলায় ডেভিড, যার ভাই অতীতে বন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, বলেন, “এখনই জীবন বাঁচানোর সময়। একটিও বন্দি যেন বাদ না পড়ে, এমন একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির প্রয়োজন।”


এটি নেতানিয়াহুর তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্র সফর হলেও, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ও তৎপরবর্তী ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পটভূমিতে এটি প্রথমবারের মতো ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মুখোমুখি বৈঠক।


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-ইসরায়েল সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব গাজায় যুদ্ধ বন্ধের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী অভিযান নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে, ফলে জোটসঙ্গীদের আপত্তি সত্ত্বেও তিনি এখন শান্তিচুক্তিতে সম্মত হতে পারেন।


অন্যদিকে হামাসও ইরানের সাম্প্রতিক দুর্বল অবস্থানের কারণে চুক্তির জন্য বেশি নমনীয় অবস্থানে রয়েছে।


এদিকে ট্রাম্পের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত: ইসরায়েল-সৌদি আরব সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ, ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্ত প্রশ্নে সমঝোতা এবং ইরানের পরমাণু চুক্তি পুনরায় আলোচনার উদ্যোগ—সবই তার মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনার অংশ।