দুই রাষ্ট্রীয় সমাধানে একমত ব্রিকস নেতারা
ব্রিকস জোটের নেতারা রোববার রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ১৭তম শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক নীতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও কোনো নেতাই সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও একতরফা শুল্ক বৃদ্ধিকে "বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর" আখ্যা দিয়ে কৌশলগত সমালোচনা করা হয়।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও নতুন সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণে সম্প্রসারিত ব্রিকস এখন বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং জিডিপির ৪০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করছে।
বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু
ব্রিকস সদস্যরা শুল্কবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের অস্থির অবস্থানকে সমালোচনার মাধ্যমে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন। এপ্রিল মাসে মার্কিন বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও ট্রাম্প শুল্ক স্থগিত করেছিলেন, তবে তিনি হুমকি দিয়েছেন যে আগস্টের ১ তারিখের মধ্যে নতুন চুক্তি না হলে একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ করবেন।
ব্রিকস যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "একতরফা অর্থনৈতিক চাপ বিশ্ব অর্থনৈতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করতে পারে।"
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট
বিবৃতিতে ব্রিকস নেতারা ইরানকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের স্থাপনায় সামরিক হামলার নিন্দা করেন। পাশাপাশি গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনি সংকটের ক্ষেত্রে দুই রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানান।
তবে নতুন সদস্য ইরান ও সৌদি আরবের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের কারণে জোটের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য রক্ষা করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এক সময়ের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির জোট ব্রিকস এখন চীনের নেতৃত্বে পশ্চিমা আধিপত্যের বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় রয়েছে।