বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল ২০২৬
হোমরাজনীতিজাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের শোডাউন প্রস্তুতি চূড়ান্ত

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের শোডাউন প্রস্তুতি চূড়ান্ত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের শোডাউন প্রস্তুতি চূড়ান্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৭ দফা দাবিকে সামনে রেখে আগামী ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে লক্ষ্য লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সমাবেশকে সামনে রেখে নির্বাচনি কৌশল, রাজনৈতিক বার্তা ও ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছে জামায়াত। সমাবেশে বিএনপি, বাম-ডানপন্থি ও ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।


গণ-অভ্যুত্থানের পর জামায়াতের এটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় সমাবেশ। দলটির নেতারা জানান, সমাবেশ শুধু দলের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি নয়; বরং এটি দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ন্যায্যতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচিত হবে।


সমাবেশে দলটি যে ৭ দফা তুলে ধরবে সেগুলো হলো:


সকল গণহত্যার বিচার


প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার


জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন


অভ্যুত্থানে শহীদদের পুনর্বাসন


পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন


প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ


লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠন


জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, সমাবেশ সফল করতে বাস্তবায়ন কমিটি ও বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যেই একাধিক বৈঠক করেছেন।


দলের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরও সমাবেশ সফল করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ঢাকাসহ আশপাশের জেলা ও মহানগর থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক নেতাকর্মী আনার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।


এদিকে সমাবেশ সফল করতে ৩১ ফুট প্রস্থ ও ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যের মঞ্চ, এলইডি প্রজেক্টর ও সিসিটিভির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।


জামায়াত নেতারা জানান, নির্বাচন সামনে রেখে দলটি আসনভিত্তিক একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার প্রচেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত ঐক্য পুরোপুরি সফল হয়নি।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের ঐক্য গঠনের পথে মতাদর্শিক ও নেতৃত্বসংক্রান্ত মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে আছে। ফলে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই এ ঐক্য কতটা কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট হবে।


জামায়াতের দাবি, তারা নির্বাচন চাই—তবে তা যেনতেন নয়। দলটি চায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পিআর ভিত্তিক নির্বাচন এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ।