স্বাধীনতাযুদ্ধকে মূল অর্জন হিসেবে রাখার পক্ষে বিএনপি, বাদ 'সেকেন্ড রিপাবলিক'
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করতে সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বিএনপি। ঘোষণাপত্রের একটি নতুন খসড়া সরকার প্রণয়ন করার পর প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করে তা দলের পক্ষ থেকে সরকারের এক উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১০ জুলাই) বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা মত দেন, এই ঘোষণাপত্রটি সাংবিধানিক নয় বরং রাজনৈতিক দলিল হিসেবে রাষ্ট্রীয় আর্কাইভে সংরক্ষিত হওয়া উচিত। তারা বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
খসড়া সংশোধনে বিএনপি বলেছে, ঘোষণাপত্রের সূচনা হওয়া উচিত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে প্রধান অর্জন হিসেবে তুলে ধরে, যেখানে গৌরবময় বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তাই তারা পূর্বের ‘পাকিস্তান আন্দোলন ও ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা’ সংক্রান্ত ভাষ্য বাদ দিয়েছে।
এছাড়া, এক-এগারো পরবর্তী অংশে থাকা ‘ক্ষমতার সুষ্ঠু রদবদলের রাজনৈতিক ব্যর্থতা’ শব্দবন্ধটি পরিবর্তন করে ‘দেশি-বিদেশি চক্রান্তের সুযোগে’ শব্দটি যুক্ত করার সুপারিশ করেছে বিএনপি।
বিএনপি আরও বলেছে, ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের পক্ষে তারা নয়; বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার উপযুক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
জানা গেছে, ঘোষণাপত্রে থাকা ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ ধারণাটিও বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন সংশোধিত খসড়ায় শব্দগত ও বক্তব্যভিত্তিক আরও কিছু পরিবর্তন এনেছে দলটি।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার। এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে।