গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি পণ্ড করতে হামলার নির্দেশ, শেখ হাসিনার অডিও বার্তা ফাঁস
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত ‘১৬ জুলাই: মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি পণ্ড করতে দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল এনসিপির নেতাকর্মীদের গোপালগঞ্জে ঢুকতে দিলেও কাউকে জীবিত ফেরতে না দেওয়া, বিশেষ করে দলটির শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা।
এই হামলার আগে স্বয়ং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়াল ও সভাপতি নিউটন মোল্লাসহ স্থানীয় নেতাদের সরাসরি হামলার নির্দেশনা দেন বলে দাবি করা হয়েছে।
একটি অডিও বার্তায় শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “ওরা (এনসিপি) নাকি গোপালগঞ্জে যাচ্ছে। আমার বাবার কবর ভাঙার হুমকি দিয়েছে। তোমরা বসে আছ কেন? যেভাবে পার প্রতিহত করো। যাতে গোপালগঞ্জের মাটি থেকে ওরা কেউ জীবিত ফিরে যেতে না পারে।”
আরেকটি অডিওতে তিনি বলেন, “ওরা আশপাশের জেলা থেকে লোক জড়ো করছে। টুঙ্গিপাড়ায় যেন ওরা ঢুকতে না পারে। ঢুকলেও একজনকেও যেন জীবিত অবস্থায় ফিরতে দেওয়া না হয়।”
অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনার এসব বার্তার পরদিন গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের কর্মীরা একযোগে হামলা চালায়। পুলিশি গাড়িতে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এনসিপির গাড়িবহরে কয়েক দফা গুলি ও বোমা হামলা করা হয়।
এতে সরাসরি অংশ নেয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি কলকাতা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার নির্দেশ দেন।
এই হামলা ও প্রতিরোধ অভিযানে ভূমিকা রাখেন শেখ হাসিনার ফুপাত ভাই ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, লন্ডন থেকে আব্দুর রহমান, ইকবাল হোসেন অপু, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম কাজল।
নারী কর্মীদের সংগঠিত করেন গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ইয়াসমিন আলম। তাকে পুলিশ আটক করেছে।
উল্লেখ্য, এনসিপি ১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন ছিল। এরপর শরীয়তপুরের জাজিরায় পরবর্তী কর্মসূচি পালনের কথা ছিল তাদের।