গাজায় ত্রাণের জন্য অপেক্ষারত জনতার ওপর ইসরাইলের গুলি, নিহত ৯২
গাজার উত্তরাঞ্চলের জিকিম ক্রসিং, দক্ষিণের রাফাহ এবং খান ইউনিস এলাকায় ত্রাণের জন্য অপেক্ষারত ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে অন্তত ৯২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
রোববার (২০ জুলাই) এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, জিকিমে ইসরাইলি হামলা থেকে বেঁচে যান রাইজেক বেতার। আহত এক যুবককে সাইকেলে করে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান।
রাইজেক বলেন, "আমরা তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি। তারপর আমার সাইকেলে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। এখানে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই, খাবার নেই, জীবন নেই। কেবল কোনোমতে টিকে আছি।"
এদিকে হামাস, ইসলামিক জিহাদসহ কয়েকটি গোষ্ঠী এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, ক্ষুধা, বোমা হামলা আর অবরোধের মাধ্যমে পরিকল্পিত গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল। তারা আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং ইউরোপের নীরবতা এই মানবিক বিপর্যয়কে যুদ্ধাপরাধে পরিণত করেছে।
তারা গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকেও দায়ী করেছে।
জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরওয়ার প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেন, "গাজায় ক্ষুধা একটি মানুষের তৈরি দুর্যোগ। সীমান্তে তিন মাসের খাদ্য মজুত থাকলেও গত মার্চ থেকে সেখানে কোনো ত্রাণ ঢুকতে দেয়া হয়নি। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই এই সংকটের মূল কারণ।"
গাজার স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, জ্বালানির সংকটে ইতিমধ্যে বহু হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে চলেছে।