গাজায় যুদ্ধের অবসানে ২৫ দেশের কঠোর আহ্বান
গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসানে তীব্র ভাষায় আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের দুই ডজনেরও বেশি দেশ। তারা বলছে, গাজায় মানবিক সংকট নতুন এক গভীরতায় পৌঁছেছে। ইসরায়েলের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন কমতে থাকায়, তার মিত্র দেশগুলোর কণ্ঠও এখন আরও কঠোর হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২১ জুলাই) যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২৫টি দেশের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, "যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে।"
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ নতুন এক স্তরে পৌঁছেছে। এই দেশগুলো যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি ও গাজায় বাধাহীনভাবে জরুরি সাহায্য পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানানো হয়, যেখানে বলা হয়, "ত্রাণ আটকে রাখা এবং শিশু সহ সাধারণ মানুষকে হত্যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।"
জাতিসংঘ ও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুধু খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়েই গত মে মাসের শেষ থেকে ৮৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ইসরায়েল কিছুটা অবরোধ শিথিল করেছিল, তারপরও খাদ্য ও পানির সংকট কাটেনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের সাহায্য বিতরণ পদ্ধতি অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে এবং গাজার মানুষের মানবিক মর্যাদাকে ভেঙে দিচ্ছে। দেশগুলোর মতে, বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সহায়তা পৌঁছাতে ইসরায়েলের বাধা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি ইসরায়েলকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
আল জাজিরার মতে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোর এটি অন্যতম কঠোর বিবৃতি। এই বিবৃতিতে ইউরোপের বাইরের দেশগুলোও— যেমন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও জাপান— যুক্ত হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে দেশগুলো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
তবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় এখনও কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, সামরিক চাপ বাড়ালেই হামাস আলোচনায় আসবে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামি পার্লামেন্টে ভাষণে বলেছেন, "এই যুদ্ধের কোনো সামরিক সমাধান নেই। পরবর্তী যুদ্ধবিরতি যেন চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি হয়।"
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালানোর পর ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলায় ১,১২৯ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৯,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।