মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বহরিয়ানায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করা হচ্ছে ভারতীয় বাঙালি নাগরিকদের।

হরিয়ানায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করা হচ্ছে ভারতীয় বাঙালি নাগরিকদের।

favicon
অনলাইন সংস্করণ
হরিয়ানায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করা হচ্ছে ভারতীয় বাঙালি নাগরিকদের।

হরিয়ানায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে ভারতীয় বাঙালিদের আটক, আতঙ্কে অভিবাসী শ্রমিকরা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বাসিন্দা পাথর আলি শেখকে গুরুগ্রামের রাস্তায় থেকে পুলিশ আটক করে। ভাঙারির কাজ করা আলি শেখ প্রতিদিনের মতো রাস্তায় কাজ করছিলেন, এমন সময় পুলিশ তাকে থামিয়ে পরিচয়পত্র দেখতে চায়। সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র না থাকায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে সেক্টর ১০এ-তে একটি অস্থায়ী কমিউনিটি সেন্টারে রাখা হয়, যেটি পুলিশ এখন আটক শিবির হিসেবে ব্যবহার করছে।

আলি শেখ জানান, সেখানে তার মতো আরও অন্তত ৭৪ জনকে আটক রাখা হয়েছিল। বেশিরভাগই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাংলাভাষী নাগরিক। তাদের অনেককে কাজের স্থান থেকে সরাসরি ধরে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা মুকুল হাসান শেখ। তিনি বলেন, “আমি বিভিন্ন সেক্টর ঘুরে দেখেছি, বহু বাঙালিকে বাংলাদেশি সন্দেহে ধরা হচ্ছে। ভেরিফিকেশনের নামে দিনকে দিন আটকে রাখা হচ্ছে। কারও আধার কার্ড থাকলেও মুসলিম নাম শুনলেই থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”

আলি শেখ জানান, তার নিজ এলাকা নবদ্বীপ থানার ওসি পরিচয়পত্র যাচাই করে একটি চিঠি পাঠানোর পর তাকে ও আরও ২৫ জনকে চারদিন পর মুক্তি দেওয়া হয়। তবে এখনও সেখানে কয়েকজন আটক আছেন বলেও জানান তিনি।

এই ঘটনায় গুরুগ্রামের শ্রমজীবী ও অভিবাসী বাঙালিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুপান্থ সিনহা জানান, তিনি সেক্টর ১০এ-এর কমিউনিটি হলে গিয়ে প্রায় ২০০ জনকে আটক অবস্থায় দেখেছেন। তিনি বলেন, “অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এদের তিন-চার দিন আটকে রাখা হয়েছে। খাবারও ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না।”

এ ধরনের আটকের ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সিনহা। তিনি জানান, “পুলিশ মৌখিকভাবে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সন্দেহভাজনদের ৩০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। কিন্তু এই ধরনের কোনো লিখিত নির্দেশ আমাদের দেখানো হয়নি।”

উল্লেখ্য, শুধু হরিয়ানাই নয়—রাজস্থান, গুজরাট, ছত্তিশগড়, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও ওড়িশার মতো রাজ্যেও ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করার অভিযানের নামে ভারতীয় বাঙালিদের আটক করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়েও কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-আউট করে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

গুরুগ্রাম পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্দীপ তুরান অবশ্য জানিয়েছেন, পরিচয় যাচাইয়ের পর কেউ ভারতীয় নাগরিক প্রমাণিত হলে তাকে আটকে রাখার কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। তিনি বলেন, “আপনাদের কাছে যদি এমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য থাকে, তাহলে আমাদের জানাতে পারেন।”

এই ঘটনায় গুরুগ্রামের শ্রমজীবী বাঙালিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা মানবিক ও আইনগত দিক থেকে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।