রাশিয়ার কিশোর সৈন্যদল: স্কুল শেষেই সরাসরি যুদ্ধে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছেন, ১৮ বছর বয়সী কাউকে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হবে না। তবে বিবিসি রাশিয়ান সার্ভিসের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র—গত দুই বছরে কমপক্ষে ২৪৫ জন ১৮ বছর বয়সী রুশ সৈন্য ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন।
বিবিসির এই তদন্তে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি পরিবর্তিত নীতিমালার কারণে স্কুল শেষ করা কিশোররা বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই চুক্তিভিত্তিক পেশাদার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারছে। এতে মোটা অঙ্কের বোনাস এবং দেশপ্রেমমূলক প্রচারণা অনেক তরুণকে আকৃষ্ট করছে।
এমনই এক তরুণ আলেকজান্ডার পেতলিনস্কি। ১৮তম জন্মদিনের মাত্র দুই সপ্তাহ পর তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং মাত্র ২০ দিনের মাথায় ইউক্রেনে নিহত হন। তার খালা জানান, ছোটবেলা থেকেই আলেকজান্ডার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখত এবং সে উরাল অঞ্চলের চেলিয়াবিনস্ক মেডিকেল কলেজেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তবে যুদ্ধের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ তাকে অন্য পথে নিয়ে যায়।
ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও যুদ্ধবিরোধী ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেখানে সেনা ডাকার ন্যূনতম বয়স ২৫ হলেও, সরকার এই বয়সসীমার নিচের তরুণদের বাধ্যতামূলক যুদ্ধে পাঠানোর সিদ্ধান্তে জনরোষের মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়া জাতীয় পর্যায়ে সেনা মোতায়েন (মোবিলাইজেশন) না করে দরিদ্র অঞ্চলের তরুণদের মোটা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সেনাবাহিনীতে চুক্তিবদ্ধ করছে। আগে যেখানে সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগে কমপক্ষে তিন মাসের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক ছিল, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে তা বাতিল করে দেয়া হয়।
এছাড়া রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থাও তরুণদের সামরিক মানসিকতায় গড়ে তুলছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্কুলে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বিষয়ে ক্লাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যুদ্ধফেরত সৈনিকেরা বিদ্যালয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, শিশুদের দিয়ে ট্রেঞ্চ ক্যান্ডেল ও ক্যামোফ্লাজ নেট তৈরি করানো হচ্ছে, এমনকি কিন্ডারগার্টেনের শিশুরাও ফ্রন্টলাইনের সৈনিকদের উদ্দেশে চিঠি ও ছবি পাঠাচ্ছে।
২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যসূচিতে যুক্ত হয়েছে একটি নতুন বিষয়: ‘নিরাপত্তা ও মাতৃভূমি প্রতিরক্ষা ভিত্তি’, যেখানে শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে কালাশনিকভ রাইফেল এবং হ্যান্ড গ্রেনেড ব্যবহারের কৌশল।
সামরিক নিয়োগকর্তারাও এখন বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের চুক্তিভিত্তিক সৈনিক হওয়ার পথ সম্পর্কে উৎসাহ দিচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি রাশিয়ান ইনভেস্টিগেশন