মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বগাজা দখলের পরিকল্পনায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার অনুমোদন, যুদ্ধ বন্ধে ৫ শর্ত

গাজা দখলের পরিকল্পনায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার অনুমোদন, যুদ্ধ বন্ধে ৫ শর্ত

favicon
অনলাইন সংস্করণ
গাজা দখলের পরিকল্পনায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার অনুমোদন, যুদ্ধ বন্ধে ৫ শর্ত

গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলের লক্ষ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। শুক্রবার (৮ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।


টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, গাজা দখলের জন্য জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) যে পরিকল্পনা করেছে, সেটি অনুমোদন পেয়েছে মন্ত্রিসভায়। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে গাজা দখলে রাখার কোনো ইচ্ছা নেই ইসরায়েলের। বরং হামাস উৎখাত শেষে সেখানে একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠন করা হবে।


গত বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা গাজায় নিরাপত্তা বেষ্টনী চাই, কিন্তু শাসন করতে চাই না। যুদ্ধ দ্রুতই শেষ করতে চাই। যদি হামাস অস্ত্র ফেলে ও জিম্মিদের ছেড়ে দেয়, তাহলে আগামীকালই যুদ্ধ থামবে।”


তিনি আরও বলেন, এমনকি গাজার ফিলিস্তিনিরাও এখন হামাসের বিরুদ্ধে। আর হামাস পরাজিত না হলে গাজায় তাদের বিকল্প কেউ টিকে থাকতে পারবে না।


ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, গাজা দখলের পরিকল্পনা আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল এবং এখন তা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেল। সরকার থেকে জানানো হয়, নেতানিয়াহুর “হামাস পরাজয়ের প্রস্তাব” নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। একইসাথে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে বেসামরিকদের মানবিক সহায়তা দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।


মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে পাঁচটি শর্ত অনুমোদন পেয়েছে। সেগুলো হলো:


হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ,


জিম্মি ৫০ জনকে ফেরত আনা (যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে ধারণা),


গাজা উপত্যকার সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ,


গাজায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা,


হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নয়, বরং একটি বিকল্প বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে গাজা পরিচালনার ব্যবস্থা।


তবে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, “এটি শুধু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে, আরও জিম্মি মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াবে এবং বিপুল অর্থ অপচয় ঘটাবে।”


এদিকে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত এক মাসেই অনাহারে মারা গেছে অন্তত ২৯ শিশু, যাদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে।