বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ট্রাম্পের শুল্ক আগ্রাসনে ভারতের রপ্তানি সংকটে, ঘুরে দাঁড়াতে চায় নয়াদিল্লি

ট্রাম্পের শুল্ক আগ্রাসনে ভারতের রপ্তানি সংকটে, ঘুরে দাঁড়াতে চায় নয়াদিল্লি

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ট্রাম্পের শুল্ক আগ্রাসনে ভারতের রপ্তানি সংকটে, ঘুরে দাঁড়াতে চায় নয়াদিল্লি

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার “অপরাধে” ভারতের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের পণ্যের ওপর মোট শুল্কহার দাঁড়াচ্ছে ৫০ শতাংশ, যা কার্যকর হবে ২৭ আগস্ট থেকে।

ভারত সরকার এই পদক্ষেপকে “অন্যায়” ও “অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ভারতের রপ্তানিমুখী বাণিজ্য ও অর্থনীতির ওপর সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ধাক্কা।

ভারত থেকে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। নতুন শুল্ক হার কার্যকর হলে এসব পণ্য মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে, আর অধিকাংশ রপ্তানিকারকই এত উচ্চ হারে শুল্ক সহ্য করতে পারবেন না।


কোন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

জাপানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নোমুরা জানিয়েছে, এটি কার্যত একটি “বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা” (trade embargo) হিসেবে কাজ করবে। ভারতের প্রধান রপ্তানি খাত—টেক্সটাইল, গয়না ও হস্তশিল্প—যেগুলো শ্রমনির্ভর, সেগুলোর ওপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।

তামিলনাড়ুর তিরুপুরের তৈরি পোশাক শিল্প এবং গুজরাটের সুরাটের হীরা ও স্বর্ণালংকার শিল্পে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব?

কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ৫০% শুল্ক বসায়, ভারতও সমান জবাব দেওয়া উচিত।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টা শুল্ক বসানোর সম্ভাবনা কম, তবে তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

২০১৯ সালেও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ২৮টি পণ্যে পাল্টা শুল্ক দিয়েছিল স্টিল-অ্যালুমিনিয়াম ইস্যুতে।


চীন-রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে ভারত?

বাণিজ্যিক সংকটের জেরে দিল্লি এখন তাদের কৌশলগত অ্যালায়েন্স পুনর্বিবেচনার দিকে এগোচ্ছে। শীর্ষ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির আসন্ন এসসিও সম্মেলন এবং পুতিনের ভারত সফর—এই দুটির মধ্য দিয়েই রাশিয়া-ভারত-চীন অক্ষরেখা আরও স্পষ্ট হতে পারে।


রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমাতে পারে ভারত?

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি করা ভারতের জন্য এখন আর আগের মতো সাশ্রয়ী নয়। আগের প্রতি ব্যারেল ২৫–৩০ ডলার সাশ্রয় এখন নেমে এসেছে মাত্র ৩–৪ ডলারে। ফলে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের “বিশেষ কৌশলগত সম্পর্ক” অটুট থাকবে।


বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার আশায় নয়াদিল্লি

৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরও ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তি আলোচনার দ্বার এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চলতি মাসেই একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসবে।

সাবেক রিজার্ভ ব্যাংক গভর্নর উর্জিত প্যাটেল বলেছেন, এই আলোচনাই এখন ভারতের জন্য প্রধান ভরসা। তবে ভারত কৃষি ও ডেইরি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিয়ে আপস করবে কি না, সেটি দেখার বিষয়।