দিল্লিতে বিক্ষোভ মিছিল থেকে রাহুল গান্ধীসহ একাধিক বিরোধী এমপি আটক
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের এমপি ও সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধীকে বিক্ষোভ মিছিল থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার সকালে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আয়োজিত এই মিছিলে তার বোন ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, শিব সেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) নেতা সঞ্জয় রাউতসহ একাধিক বিরোধী এমপিকেও আটক করা হয়।
পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে রাজনীতিবিদ ও কর্মীরা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে দিতে গেলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন, যাকে রাহুল গান্ধী তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য করেন।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট ওই দিন নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছিল। তবে সকালেই পার্লামেন্টের চারপাশে কড়া নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ মিছিল আটকে দেয়। কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় লোকসভা ও রাজ্যসভা দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা পরিবর্তন ও কারচুপির মাধ্যমে বিজেপিকে সুবিধা দিচ্ছে। রাহুল গান্ধী গত সপ্তাহে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে প্রমাণ দেখিয়ে দাবি করেন, ভোটার তালিকায় ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে এবং কমিশনের কাছে খসড়া তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানান।
সম্প্রতি বিহারে নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা বলছে, এটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধীদের ভোটব্যাংক কমানোর কৌশল। তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রক্রিয়াটি চালু রাখতে অনুমতি দিলেও প্রকৃত ভোটারদের বাদ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে—তিনি যেন সই করা হলফনামাসহ প্রমাণ উপস্থাপন করেন।