শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা, বিজিবির তল্লাশি জোরদার
ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দেশত্যাগ রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আসামিদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টসহ পূর্বাঞ্চল সীমান্তে নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার ঘটনার পর থেকেই আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়ন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই যেন হামলায় জড়িত কেউ দেশত্যাগ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে কঠোর তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে, শুক্রবার দুপুরে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার পর রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হামলাকারীদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সীমান্তে তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দেন।
বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা যেন কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এ হামলাকে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সাত্তার জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকেই চেকপোস্টে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কঠোর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কোনো অপরাধী যেন এই পথ ব্যবহার করে দেশত্যাগ করতে না পারে, সে বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ঢাকায় সংঘটিত নাশকতা কর্মকাণ্ডে জড়িত কেউ যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্তে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।