ভোটের মাঠে আবারও হাওলাদার দম্পতি: এনডিএফ জোটের প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ে ফিরছেন রুহুল আমিন ও রতনা
বরিশাল ও পটুয়াখালীর রাজনীতিতে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও নাসরিন জাহান রতনা এক সুপরিচিত দম্পতি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ক্ষমতার পালাবদল, দলবদল এবং জোট রাজনীতির নানা সমীকরণে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছেন তাঁরা। কখনও বিএনপি, কখনও জাতীয় পার্টি, আবার কখনও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ছায়াতলে থেকে এই দম্পতি বারবার সংসদের বারান্দায় পা রেখেছেন। তবে ২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দম্পতি এখন এক নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি।
এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন বিএনপির মাধ্যমে। ১৯৭৯ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এরশাদ সরকারের আমলে তিনি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভাতেও জায়গা করে নেন। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলায় সহযাত্রী হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন স্ত্রী নাসরিন জাহান রতনা, যিনি নিজেও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং তিনবারের সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন।
হাওলাদার পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সামরিক শাসন থেকে শুরু করে মহাজোটের রাজনীতি পর্যন্ত তাঁদের প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। রুহুল আমিন হাওলাদার বরিশাল-৬ আসন থেকে একাধিকবার জয়ী হলেও পরবর্তীতে আসনটি স্ত্রীর জন্য ছেড়ে দিয়ে নিজে পটুয়াখালী-১ আসনে মনোনিবেশ করেন। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি পটুয়াখালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, রতনা ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে সংসদে এলেও পরবর্তীতে সরাসরি ভোটে বরিশাল-৬ আসন থেকে জয়লাভ করেন। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খান রতনা; ৯ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়, যা ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় বিপর্যয়।
আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই দম্পতি আবারও ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। এবার তাঁরা লড়ছেন নবগঠিত জোট ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ (এনডিএফ)-এর ব্যানারে। নাসরিন জাহান রতনা বরিশাল-৬ এবং রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালী-১ আসন থেকে ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অতীতে বরাবরই প্রভাবশালী জোটের শরিক হিসেবে নির্বাচনে সুবিধা পেলেও, এবার বড় কোনো প্রধান জোটের বাইরে থেকে নির্বাচনে জেতা তাঁদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটনির্ভর রাজনীতির বাইরে গিয়ে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করা এবং জামানত হারানোর গ্লানি মুছে ফেলা—উভয়ই হবে এই রাজনৈতিক দম্পতির জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।