জামায়াতের সঙ্গে জোট ঘোষণার পর এনসিপি ছাড়লেন আজাদ খান ভাসানী
জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট গঠনের ঘোষণা আসার পর দলটি থেকে একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে। গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণার পর নতুন করে আরও কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া এসব নেতার তালিকায় এবার যুক্ত হলেন এনসিপির কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী এবং মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী।
রোববার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি ছাড়ার ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে আজাদ খান ভাসানী লেখেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের হাত ধরে গঠিত এনসিপিতে তিনি অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি শুরু থেকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামই ছিল তাঁর রাজনৈতিক পথচলার মূল প্রেরণা।
তিনি আরও লেখেন, মওলানা ভাসানীর গণমানুষনির্ভর, আধিপত্যবাদ ও বৈষম্যবিরোধী রাজনৈতিক দর্শন থেকেই প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি দলের কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বও গ্রহণ করেন। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা, গণমানুষের প্রতি দরদ এবং ত্যাগের যে গভীরতা প্রয়োজন, তার ঘাটতি তিনি অনুভব করেছেন বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ার কথাও বলেন তিনি।
আজাদ খান ভাসানী আরও জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি সরাসরি সক্রিয় না থাকলেও দলের সঠিক রাজনীতি ও সাফল্য কামনা করে এসেছেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহান মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অনুগত থাকাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে কারণেই তিনি এনসিপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, এনসিপির সঙ্গে তাঁর স্বল্প সময়ের পথচলায় কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। একই সঙ্গে তরুণদের নেতৃত্বাধীন দলটির প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণমানুষের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রামে তারা সঠিক পথ খুঁজে পাবে।