রবিবার , ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রবিবার , ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমজাতীয়গাছ কাটায় সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা, গাছে পেরেক মারলেও শাস্তি,নতুন অধ্যাদেশ জারি

গাছ কাটায় সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা, গাছে পেরেক মারলেও শাস্তি,নতুন অধ্যাদেশ জারি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
গাছ কাটায় সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা, গাছে পেরেক মারলেও শাস্তি,নতুন অধ্যাদেশ জারি

দেশে বনভূমির দখল রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া গাছ কাটলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা, আর গাছের গায়ে পেরেক বা ধাতব বস্তু লাগিয়ে ক্ষতি করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।


আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা থেকে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অধ্যাদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


নতুন আইনটির নাম ‘বনভূমির ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বনভূমির দখল প্রতিরোধ, বন ও বনভূমি সংরক্ষণ এবং বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে সরকারি বা গণপরিসরের যেকোনো গাছ কাটতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির গাছ কাটার ক্ষেত্রেও বন বিভাগের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।


নতুন বিধান অনুযায়ী—


কর্তন নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত গাছ কাটলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা


অনুমতি ছাড়া অনুমতিযোগ্য গাছ কাটলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা


গাছে পেরেক বা ধাতব বস্তু লাগিয়ে ক্ষতি করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা


কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা


অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক বনভূমি বন-বহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তবে জাতীয় অপরিহার্য প্রয়োজনে বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন নিশ্চিত করতে হবে।


এছাড়া বনভূমির সীমানা নির্ধারণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, দখলদার উচ্ছেদে বন বিভাগকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে রোগাক্রান্ত, মৃত, ঝড়ে পড়া বা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রে আগাম অনুমতির বাধ্যবাধকতা থাকবে না।


পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রথাগত ও ঐতিহ্যগত বন অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে অধ্যাদেশে।


এই আইনটি Forest Act, 1927-এর পরিপূরক হিসেবে কার্যকর হবে। পাশাপাশি সরকার আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্তন নিষিদ্ধ ও অনুমতিযোগ্য গাছের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে বলেও জানানো হয়েছে।