বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
হোমসারা দেশগাজীপুরে মশা তাড়ানোর গ্যাসে খিঁচুনি, দুই কারখানার শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

গাজীপুরে মশা তাড়ানোর গ্যাসে খিঁচুনি, দুই কারখানার শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
গাজীপুরে মশা তাড়ানোর গ্যাসে খিঁচুনি, দুই কারখানার শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় দুই কারখানার শ্রমিকেরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) খিঁচুনি ওঠার পর এ ঘটনায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হন। এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) একই ধরনের ঘটনায় এক কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়েছিল। আজকের ঘটনায় উভয় কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।


বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে মেঘনা রোডের মা টাওয়ারে অবস্থিত গার্মেন্ট এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড এবং একই এলাকার আলম টাওয়ারে অবস্থিত ব্রাভো অ্যাপারেলস লিমিটেড-এর শ্রমিকরা অসুস্থ হন। সকাল ১০টা পর্যন্ত টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে রয়েছে নয়নতারা, শেফালী, আকলিমা, মারজান, ফুলবানু, লিমা, শারমিন, আন্না, শিল্পী, নাজমুল, ডলি, আলী, মেহেদী, সুবর্ণা, মনোয়ারা, হৃদয়, মালেকা, লিজা, শেফালী, আসমা, মনিরা, নাসিমা, রিয়া, কিরন দাস, সুমা, শাহালম, নাদিয়া, জান্নাত, আমেনা ও মোরশেদা। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিছু রোগীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়েছে।


ব্রাভো অ্যাপারেলসের শ্রমিক মো. রনি মিয়া ও আলামিন জানান, সকালে মশা তাড়ানোর জন্য গ্যাস ছিটানো হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় একের পর এক শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে পড়েন, অনেকে বমি করতে থাকেন এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। পাশের গার্মেন্ট এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের শ্রমিকরাও একইভাবে অসুস্থ হচ্ছেন।


শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার নাহিদ সুলতানা বলেন, “এটি সাধারণত মশার ওষুধ ছিটানোর গন্ধের কারণে হয়। এক-দুজন অসুস্থ হওয়ার পর দেখাদেখি অন্য শ্রমিকরাও একই অবস্থায় চলে যান। এটি সাধারণত প্যানিক অ্যাটাক।”


কারখানার কর্মকর্তারা জানান, শ্রমিক অসুস্থতার কারণে উভয় কারখানায় আজকের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।


গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পরিদর্শক আজাদ রহমান বলেন, “ঘটনার পরপর শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলে গেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে অফিসিয়ালি ছুটি ঘোষণা করা হবে। আমরা কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি।”


টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে, তবে বর্তমানে চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।