স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা, সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধের অভিযোগে ভেঙে পড়েছেন সেলিনা জেটলি
নভেম্বর ২০২৫-এ অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি তাঁর স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন, নিষ্ঠুর আচরণ ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মুম্বাইয়ের আন্ধেরি আদালতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাসের কাছে করা ওই মামলায় তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ কোটি টাকা ও অন্যান্য আর্থিক দাবি উত্থাপন করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন নোটে সেলিনা জানান, কীভাবে তাঁকে তাঁর তিন সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সন্তানদের তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলাতে মানসিকভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে।
নোটের সঙ্গে সন্তানদের একটি ছবি শেয়ার করে সেলিনা লেখেন, ১১ অক্টোবর ২০২৫ গভীর রাতে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তিনি অস্ট্রিয়া ছাড়তে বাধ্য হন। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতেই তিনি সেই সিদ্ধান্ত নেন। অল্প অর্থ নিয়ে ভারতে ফিরে এসে তাঁকে নিজের বাড়িতে প্রবেশাধিকার পেতেও আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে—যে বাড়িটি তিনি ২০০৪ সালে, বিয়ের আগেই কিনেছিলেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, অস্ট্রিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের যৌথ হেফাজতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে তাঁকে সন্তানদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
সেলিনার অভিযোগ, নির্বাচিত মিডিয়া বয়ানের মাধ্যমে সন্তানদের তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং ভয় দেখিয়ে কথা বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ জন্মের পর থেকেই সন্তানদের প্রধান যত্নদাতা ছিলেন তিনি এবং স্বামীর ক্যারিয়ার সমর্থনে এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়েছেন।
তিনি জানান, তাঁদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীর সময়ই তাঁকে ডিভোর্স নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদের চেষ্টা করলেও তাঁর বিবাহ-পূর্ব সম্পত্তি নিয়ে দাবি ও নানা শর্ত আরোপ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেলিনা লেখেন, এক রাতেই তাঁকে মা ও অভিভাবক হিসেবে নিজের ভূমিকা প্রমাণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। আর্থিক চাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের কারণে এখনো তিনি সন্তানদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না বলে জানান অভিনেত্রী।