ভোলা-১ আসনে জোট প্রার্থী নিয়ে টানাপোড়েন: বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাহারে বদলাচ্ছে নির্বাচনী সমীকরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ (সদর) আসনে জোটের প্রার্থী নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে শুরু থেকেই অসন্তোষ দেখা দেয়। শুরুতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীরকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে জোটের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থকে জোট প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বিজেপির মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। জোট প্রার্থী ঘোষণার পর গোলাম নবী আলমগীরের কর্মী-সমর্থকেরা দলীয় প্রার্থী বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলও করেন।
তবে দলের ভেতরের এই অসন্তোষের মধ্যেই গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে গোলাম নবী আলমগীর তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ভোলা-১ আসনে নতুন করে নির্বাচনী সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার জোটের একক প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর।
অন্যদিকে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে ‘এক বাক্স’ ভোটের আলোচনা থাকলেও জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে।
একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ভোলা-১ আসনে মোট ভোটার চার লাখ এক হাজার ২৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ছয় হাজার ৮৩৮, নারী ভোটার এক লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৫ এবং হিজরা ভোটার চারজন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৪টি।
এই আসনে শুরুতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে তোফায়েল আহমদের বিপক্ষে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত মোশারেফ হোসেন শাহজাহানের ছোট ভাই হওয়ায় এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোশারেফ হোসেন শাহজাহান। ২০০৮ সালে জোট সমীকরণের কারণে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার শুরুতে পার্থর ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করার কথা থাকলেও সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ায় ভোলা-১ আসনে পার্থকে জোট প্রার্থী করা হয়। ফলে এ আসনে এবারও বিএনপির সরাসরি প্রার্থী থাকছে না। জোটের পক্ষ থেকে গরুর গাড়ি প্রতীকে নির্বাচন করবেন পার্থ।
গোলাম নবী আলমগীর বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন এবং বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দলে যাওয়ার প্রশ্ন নেই। তিনি বিএনপির প্রতিই অনুগত থাকবেন বলে ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ভোলা জেলা সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর অসন্তোষ স্বাভাবিক। তবে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্দালিভ রহমান পার্থই প্রার্থী, আর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়েই নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।
এদিকে বিএনপি ও বিজেপির টানাপোড়েনের সুযোগ কাজে লাগাতে চায় জামায়াতে ইসলামী। জোটের প্রার্থী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম বেশ আগে থেকেই মাঠে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. ওবায়দুর রহমানসহ ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ ও এনপিপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ভোলা-১ আসনে এবারের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।